ঢাকা: উপমহাদেশের ইতিহাসে এক বিস্মৃত বীর শমসের গাজীর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং প্রচার-প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করলো ‘শমসের গাজী চর্চা কেন্দ্র’। শনিবার সকাল ১১টায় ফেনী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফজলুল হক শমসের গাজীর বীরত্বপূর্ণ জীবন ও তাঁর শাসনামলের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পলাশী যুদ্ধের সমসাময়িক কালে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি শাসন করতেন। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ত্রিপুরার বিশাল অংশে তাঁর শাসনাধীন ছিল। ছাগলনাইয়া উপজেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই বীর পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে তাঁর অবদান থাকা সত্ত্বেও ইতিহাস থেকে তাঁকে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে। তাঁর জীবন ও সংগ্রামের সঠিক মূল্যায়ন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মহানায়কের পরিচয় করিয়ে দিতে ‘শমসের গাজী চর্চা কেন্দ্র’ গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদ ও আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও শমসের গাজীর উত্তরসূরী জনাব ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মাইন উদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব কামাল উদ্দীন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আব্দুল্লাহ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নুর মোহাম্মদ আজমীসহ বিশিষ্টজনেরা।
সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক কাজী মোস্তাক গাউছুল হক। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক, ইকবালুল সাদিক ভূঞা ও সাইদুল ইসলাম। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুহাম্মদ ফজলুল হক। এ ছাড়া যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে থাকছেন আবিদুর রহমান, সৈকত ইকবাল ও হাফিজ আহমেদ মিলন। মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শাহাদাত মাহমুদ সিদ্দিকী এবং সহকারী মুখপাত্র হিসেবে থাকবেন কবি স্বাধীন মুর্শিদ।
সংবাদ সম্মেলনে ‘শমসের গাজী চর্চা কেন্দ্র’ সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো ফেনীতে সরকারি উদ্যোগে ‘শমসের গাজী একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করা, তাঁর জীবন ও কর্ম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শমসের গাজী চেয়ার’ প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর নামে বৃত্তি চালু করা। একই সঙ্গে তাঁর নামে দেশের বিভিন্ন সড়ক, স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা, বিশেষ করে ফেনীর মহিপালে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও ফেনী-ছাগলনাইয়া সড়কের নাম ‘শমসের গাজী সড়ক’ হিসেবে নামকরণ করার জোর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, শমসের গাজীর স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহ সংরক্ষণ করা এবং তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র, নাটক, উপন্যাস ও গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালকে ‘শমসের গাজী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে বছরব্যাপী কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষক, সাংবাদিক, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শমসের গাজীর বীরত্বগাথা ছড়িয়ে দিতে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রচনা প্রতিযোগিতা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়। সংগঠনটি অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে ‘শমসের গাজী ফাউন্ডেশন’ গঠনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।