গত ২৮ ফেব্রুয়ারী , শুক্রবার, বিকেল ৩:০০ টায়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে “সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট- সিজিডি” এর পক্ষ থেকে ” বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রের ভুমিকা” শীর্ষক একটি সেমিনার সিজিডি’র নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারে কী-নোট স্পীচ প্রদান করেন ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সাইন্স এর অধ্যাপক ড. আবদুল কুদ্দুস
সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুজিবুর রহমান, জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামীম হামিদী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আল মামুন রাসেল, বিএনপি নেতা নিপুণ বিশ্বাস।
ড. আবদুল কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু বড় এবং কর্মক্ষম যুবসমাজ বিদ্যমান তাই ওদেরকে আন্তর্জাতিক মানের সম্পদে রুপান্তর করার জন্য (যেমনটি করেছে ভারত) যুব উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়নে যথোপযুক্ত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর তরুনদেরকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার না করে তাদেরকে দলীয়, পার্লামেন্ট ও সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রেজাউল করিম রনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমুল পরিবর্তন করার এখনই বড় সুযোগ। এই সুযোগে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরে সবার আগে পরিবর্তন করতে হবে যুবকদের ক্ষমতায়িত করার জন্য।
ড. শামীম হামিদী বলেন, “প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তরুণরা। জুলাই বিপ্লব তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ। এই বিপ্লব দেখিয়েছে, তরুণদের দমন করা যায় না, বরং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে তরুণবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল বলেন, এতোদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে এখানকার তরুণরা অন্যান্য নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারলেও ‘পলিটিক্যাল লিটেরেসি’র অভাব তাদের মধ্যে ছিল৷ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যথাযথভাবে তৈরি করতে না পারলে আগামীদিনের দেশ গঠন, রাষ্ট্র গঠন, সংস্কারের প্রস্তাবনা কোনো কিছুই সম্ভব হবে না। জনপ্রশাসনে বা জননীতি তৈরিতে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে অনেকগুলো পর্যায় রয়েছে। যেমন ইউনিয়ন পর্যায়, উপজেলা পর্যায়, জেলা পর্যায়, বিভাগীয় পর্যায়। সর্বশেষে আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তাদের অংশগ্রহণের বিষয় রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে গেলে তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হয়েই নীতিমালা তৈরিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।
নিপুন বিশ্বাস বলেন, যুবকদের আইটি কাজে সম্পৃক্ত ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। এটাকে সরকার যুবকদের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে করতে হবে।
সিজিডি’র নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন,
বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তারা দাবি করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে যুবকদের জন্য কমপক্ষে ৩০% মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বাধ্য করতে হবে। রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও যুবকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।